গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি.
নাটোরের গুরুদাসপুরে জমির বিরোধে দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত বসতবাড়ির প্রবেশপথে পিলার স্থাপনের মাধ্যমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে একটি পরিবার। ঘটনাটি উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়নের রুহাই গ্রামে ঘটেছে।
এদিকে সালিশি বৈঠক করেও ভোগান্তি থেকে মুক্তি না পাওয়ায় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে বাঁধা সৃষ্টিকারী পিলার অপসারণের আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আলী আহাদ ফারুকী (৪৭)। তিনি ওই গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে।
জানা গেছে, রুহাই-৬০ মৌজার ২১২ ও ২১৫ দাগে আলী আহাদ ও তার পার্শ্ববর্তী দখলদার শিউলি খাতুনের বসতভিটা রয়েছে। একই দাগের জমি নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সম্পর্কে তারা চাচাতো ভাই-বোন।
সম্প্রতি আহাদের বসতবাড়ির প্রবেশপথে সীমানা পিলার পুঁতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার ঘটনা ঘটে। শিউলি খাতুন ছয় ইঞ্চি জায়গাও ছাড়তে রাজি না। এমনকি গ্রাম্য শালিসের রায়ও মানছেন না।
ভুক্তভোগী আলী আহাদ বলেন, বছরের পর বছর ধরে বসতবাড়ির ওই প্রবেশ পথেই চলাচল করে আসছি। কিন্তু জমির বিরোধে শিউলি আমার বাড়ির গেটের সামনে পিলার পুঁতেছে। প্রতিবাদ জানালে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পিলারটি অপসারণের জন্য ইউএনও, এসিল্যান্ড ও থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর আবেদন করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগীর ছেলে রেমিট্যান্স যোদ্ধা বুলবুল বাহারের দাবি, তাদের বাড়ির প্রবেশ পথে পিলার স্থাপনের কারণে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনা-নেওয়াসহ ঢুকতে এবং বের হতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বাড়িতে মোটরসাইকেল ঢুকাতে পারেন না। বিকল্প কোনো পথ নেই তাদের। পিলারটি অপসারণে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য হাসান আলী বলেন, ‘সমস্যাটি সমাধানে গত শুক্রবার উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে শালিসী বৈঠক হয়। সেখানে দখলদার শিউলি ও তার বাবা আনামকে ৬ ইঞ্চি জায়গা ছেড়ে দিতে বলা হয়। কিন্তু তারা শালিসের রায় অমান্য করে ওই পিলার পুঁতে রাখেন।’
জানতে চাইলে জমির দখলদার শিউলি খাতুনের বাবা এডভোকেট আব্দুল মাতালেব আনাম বলেন, ‘ওই জমি আমার মেয়েকে লিখে দিয়েছি। তাই পিলার পুঁতে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। জায়গা জমি ছাড়তে পারবো না।’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, এটা আমার দেখার বিষয় না। তবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।#

















