গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:
নাটোরের গুরুদাসপুরে স্কুল শিক্ষার্থীদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে হাতুড়ির আঘাতে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। আহত শিক্ষার্থী বর্তমানে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সামান্য ধাক্কাধাক্কিকে কেন্দ্র করে আগের দিন দুই গ্রুপের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ধারাবারিষা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া অনুষ্ঠান চলাকালে ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় একই ইউনিয়নের উদবারিয়া গ্রামের মঈনুলের ছেলে মাহফুজ, লালনের ছেলে তারেক ও হাসানের নেতৃত্বে ১০-১২ জন শিক্ষার্থী নবম শ্রেণির মিরাজ ও সাপাই রাইসুলের ওপর হামলা চালায়। তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রাবণের ওপর লোহার হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয় এবং সে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে।
পরে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
আহত শ্রাবণ জানান, তিনি গুরুদাসপুর সরকারি পাইলট হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। নিজ এলাকার একটি বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান দেখতে গিয়ে এ হামলার শিকার হন। হামলাকারীরা হাতুড়ি দিয়ে তাকে আঘাত করে এবং পরিবারের সদস্যদেরও সহযোগিতা ছিল।
গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মিনহাজুল ইসলাম মিলন জানান, শ্রাবণের মাথায় দুই স্থানে ছয়টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে সে শঙ্কামুক্ত থাকলেও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ধারাবারিষা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শের-আলম বলেন, ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হামলার সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের ভেতরে ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গুরুদাসপুর থানার ওসি মো. মনজুরুল আলম জানান, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


















