গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি.
গুরুদাসপুরে নির্মাণের একমাসের ব্যবধানে ভেঙে দেবে গেছে হেরিংবন্ড রাস্তা। উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের চিতলাপাড়া গ্রামে এলজিএসপি প্রকল্পের আওতায় ৮ লাখ ১২ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৭২ মিটারের রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়। তিনধাপে গৃহিত তিনটি প্রকল্পের এই রাস্তা নির্মাণে অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ইটের ওপর বালি ছিটিয়ে রাস্তা নির্মাণ শেষ করেছেন ঠিকাদার। কিন্তু ইটের মাঝে বালু দেয়া হয়নি। চারপাশে মাটি কম দেয়ায় বিভিন্নস্থান দেবে ও ধ্বসে গেছে। হাঁটলেই নরবড় করে ইট। ধ্বসে গেছে সাইড এজিং।
স্থানীয় নুর আমিন, মুন্নাফ, সিদ্দিক মোল্লাসহ অনেকে জানান, দীর্ঘদিন পর কাঁচা রাস্তাটি পাকা হয়েছে। কিন্তু নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ট্রলির ভাড়েই দেবে গেছে রাস্তাটি। বালু দিয়ে ইটগুলো ঠিকভাবে বসানো হয়নি। ফলে যানচলাচল করতে পারেনা। রাস্তার মাঝখানে দেবে গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এক বছর আগে এডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে ওই হেরিংবন্ড রাস্তা নির্মাণ শুরু হয়। আবার গত জুন মাসে ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০৭ মিটার হেরিংবন্ড রাস্তা নির্মাণ করা হয়। নাটোরের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরিফ কন্সট্রাকশন নির্মাণকাজ পায়। এরপর এলজিএসপি প্রকল্পের আওতায় ৮ লাখ ১২ হাজার টাকা ব্যয়ে বাকি ১৭২ মিটার রাস্তা নির্মাণকাজ অনিয়মের মধ্যে শেষ করে স্থানীয় গোকুল এন্টারপ্রাইজ।
মূলত ধারাবারিষা ইউপি সদস্য মো. কামরুজ্জামান রাস্তাটির নির্মাণকাজ শেষ করেন। তার মাধ্যমে উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ধারাবারিষা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন নিজের প্রায় সকল কাজকর্ম করান বলে জানা গেছে।
ঠিকাদার কামরুজ্জামান বলেন, রাস্তার কাজ ঠিকমতই করা হয়েছে। একটু ঊনিশ-বিশ হতে পারে। রাস্তা ভেঙে বা দেবে গেলে মেরামত করা হবে।
অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, রাস্তাটি নির্মাণে নিম্ন মানের ইট বালু ব্যবহার করা হয়নি।
উপজেলা প্রকৌশলী মিলন মিয়া জানান, এলজিএসপি প্রকল্পের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য নেই। তবে এডিপি প্রকল্পে অনিয়ম হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
















