আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের স্যান অ্যান্টোনিও শহরে আকস্মিক বন্যায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪৩ জন। ভয়াবহ এই দুর্যোগে নিহতদের মধ্যে রয়েছে অন্তত ১৫ জন শিশু। এখনও নিখোঁজ রয়েছে গ্রীষ্মকালীন একটি খ্রিষ্টান ক্যাম্পের অন্তত ২৭ শিশু। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। খবর আল জাজিরা।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৪ জুলাই) প্রবল বৃষ্টির জেরে গুয়াদালুপ নদীর পানি হঠাৎ ৯ মিটার (২৯ ফুট) বেড়ে গেলে নদীতীরবর্তী গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পটি প্লাবিত হয়। সেখানে তখন উপস্থিত ছিল প্রায় ৭৫০ শিশু।
কের কাউন্টির শেরিফ ল্যারি লেইথা বলেন, “সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক হলো—এই বিপর্যয়ে এত শিশুর মৃত্যু। এমন ধ্বংসাত্মক দৃশ্য আগে কখনো দেখিনি।”
আকাশপথে তল্লাশি, গাছ থেকে জীবিত উদ্ধার
কারভিল শহরের ব্যবস্থাপক ডালটন রাইস জানান, নিখোঁজ শিশুদের খোঁজে হেলিকপ্টার ও ড্রোন দিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কিছু শিশুকে গাছ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে মার্কিন কোস্টগার্ডও অংশ নিয়েছে।
এক রাতেই বার্ষিক বৃষ্টিপাতের এক-তৃতীয়াংশ!
জাতীয় আবহাওয়া পরিষদ (NWS) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে কের কাউন্টিতে ১২ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত হয়—যা অঞ্চলটির বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের এক-তৃতীয়াংশের সমান। ফলে প্রবল পানির তোড়ে ভেসে যায় ঘরবাড়ি, যানবাহন ও গাছপালা। বহু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত শুরু
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করছে। বন্যাকবলিতদের পাশে আমরা আছি।”
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের ক্যাম্প কতটা নিরাপদ ছিল, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে।
উদ্ধারকাজে যুক্ত এক কর্মকর্তা বলেন, “এখন আমাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য—নিখোঁজ শিশুদের যত দ্রুত সম্ভব খুঁজে বের করা। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই উদ্বেগ বাড়ছে।”



















