সমকামিতা ও যৌন হয়রানির অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাফিজুল ইসলামকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। দীর্ঘ তদন্ত ও শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানানো হয়, গত ৩১ মে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ২৬৮তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাফিজুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হয়। আদেশে বলা হয়, তার কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি, শৃঙ্খলা ও আচরণবিধির পরিপন্থী ছিল।
তদন্ত, প্রতিবেদন ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হাফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এর পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযোগ যাচাইয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে সমকামিতায় বাধ্য করা, যৌন হয়রানি ও হেনস্তার মতো গুরুতর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
পরবর্তী পর্যায়ে ২২ ডিসেম্বরের সিন্ডিকেট সভায় হাফিজুল ইসলামের এক বছরের ইনক্রিমেন্ট বাতিল এবং এক বছরের বাধ্যতামূলক ছুটির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে শিক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে পূর্ণ অপসারণের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখে।
শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ৩১ মে হাফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে শিক্ষার্থীরা হাফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে কমপক্ষে ২৭টি অভিযোগ জমা দেন এবং মৌখিকভাবে আরও অভিযোগ উপস্থাপন করেন। এসব অভিযোগের মধ্যে ছিল—শিক্ষার্থীদেরকে সমকামিতায় বাধ্য করা, অশালীন প্রস্তাব দেওয়া, ক্লাসে হেনস্তা, মানসিক চাপ সৃষ্টি ও আত্মসম্মানহানিকর আচরণ।
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর গত বছরের ২৩ অক্টোবর থেকে হাফিজুল ইসলামকে বিভাগীয় কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়। এরপর কয়েক দফায় শিক্ষার্থীরা তার স্থায়ী বহিষ্কার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যান।


















