রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি নান্নুকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের খেয়াঘাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচএম সাজ্জাদ হোসেন।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার হওয়া নান্নু ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণকারী চারজনের একজন। ভিডিওতে দেখা যায়, ইট ও সিমেন্টের ব্লক দিয়ে সোহাগকে আঘাত করা হয়। এই নিয়ে এ মামলায় মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
র্যাব জানায়, র্যাব-১০ এর একটি দল অভিযান চালিয়ে নান্নুকে গ্রেপ্তার করে, র্যাব-১১ এতে সহায়তা করে। বিস্তারিত তথ্য র্যাব-১০ পরে জানাবে বলেও জানান র্যাব-১১ এর অধিনায়ক।
এর আগে রোববার সকালে ঢাকা ও নেত্রকোণা থেকে সজীব ও রাজীব নামে আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।
গত বুধবার দুপুরে মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে সোহাগকে ডেকে নেয় একদল যুবক। পরে সড়কের পাশেই পিটিয়ে, ইট-পাথর দিয়ে আঘাত করে নৃশংসভাবে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার সময় হামলাকারীরা সোহাগকে বিবস্ত্র করে। তার শরীরের ওপর লাফিয়ে আঘাত করতে দেখা যায় কয়েকজনকে। সোহাগ ঘটনাস্থলেই মারা যান।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোহাগ ভাঙারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং একসময় যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি বরগুনা সদরে। তার এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে — মেয়ে সোহানা ষষ্ঠ শ্রেণিতে এবং ছেলে সোহান চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে।
সোহাগ হত্যা মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন তার পরিবার। স্থানীয়দের ধারণা, চাঁদাবাজি নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।


















